একদিন ছুটির দিন


যেহেতু আজ একটা ছুটির দিন ছিল, তাই সকালে বেশ দেরি করে বিছানা ছেড়েছি। আমার দেরি দেখে উপায়ান্তর না পেয়ে পুত্রকন্যা নিজেরাই রুটি সেঁকে, ডিম ভেজে নাস্তা করে নিয়েছে।

যেহেতু ছুটির দিন ছিল, তাই অপ্রয়োজনীয় কাপড়চোপড় গুলো নাড়াচাড়া দিয়েছি। বেশ কয়েকটি পুরনো বিছানার চাদর উদ্ধার করলাম। ভাবছিলাম কি করা যায়! প্রত্যেকটা আবার অল্পস্বল্প ছেঁড়াফাটা আছে। ছানাদের বাবা উৎসাহ দিল, এগুলো দিয়ে পুত্র কন্যার কাঁথা বানিয়ে ফেলতে!

😑

সে যেকোনো কাজে এমন ভাবে উৎসাহ দেয়, যেন একদিনে পর্বত জয় করা কোন ব্যাপারই না!! অধিক জোসে তাই চাদর কাটাকাটি করে সেলাই করতে বসে গেলাম। তবে বলা যাচ্ছে না, এ কাজ কত বছরে শেষ হবে!!

যেহেতু আজ একটা ছুটির দিন, তাই মহা উৎসাহে হালুয়া বানিয়ে ফেললাম, যেটা বছরে মাত্র দু-তিনবার বানানো হয়।

যেহেতু একটা ছুটির দিন পেলাম তাই পুত্র কন্যাকে নিয়ে পড়তে বসলাম এবং দেখলাম তারা কোন পড়াশোনা কমপ্লিট করে না, সব অর্ধেক করে রেখে দিয়েছে! তাদের পিতাকে বললাম কন্যার জন্য পাত্র দেখতে। পড়ালেখা করতে মন নাই, এরূপ কন্যাকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠায় দেওয়া উত্তম। মন দিয়ে ঘর সংসার করবে আর ক্রাফটিং করবে! পাকিস্তানের নাকি পড়াশোনা করতে ভালো লাগে না দেখে তেরো বছর বয়সী ছেলেকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে, তার পরিবার। দেখে বেশ অনুপ্রাণিত হলাম!! ৯ বছর বয়সী কন্যার পাত্র এখন থেকে খুঁজে রাখা দরকার!!

🥺

যেহেতু আজ ছুটির দিন তাই ছানাদের এসাইনমেন্টে হাত লাগালাম!

যেহেতু আজ অনেক আরামের দিন, ছুটির দিন তাই ছোটপুত্র বমি করে দুনিয়াদারি ভাসায় ফেলছে । কাপড় চোপড়, চাদর , বালিশ…..আর আমি বমি পরিষ্কার করে বেড়াচ্ছি।

আলহামদুলিল্লাহ…..খুব সুন্দর ছুটির দিন….. শুধু ছোট পুত্র সুস্থ থাকলে, দিনটা আরো ভালো যেতো।