নিরাপদ শৈশব

দাদু বাড়ি, নানাবাড়ি বেড়ানো শেষ করে এখন নিজ গৃহে অবস্থান করছে ছানাপোনার দল। ব্যাপক আনন্দ উদযাপন করে এখন যেন আর তাদের সময় কাটতে চাইছে না ।

তাদের কাছে ঈদ আনন্দ হল বাসার বাইরে বেড়াতে যাওয়া। ঈদ পরবর্তী ঘোরাঘুরিতে তারা তাই এদিক সেদিক বের হয়েছিল একেক দিন। আমরা তিন বোন, আমার তিন বাচ্চা এবং আমার ছোট আন্টি সহ এদিক সেদিক অনেক মজা করে ঘুরে বেড়িয়েছি এ কয়দিন।

বাচ্চাদের শৈশবের একটা আনন্দময় স্মৃতি হয়ে থাকবে এই ঘুরে বেড়ানো। ভাবছিলাম যেসব বাচ্চারা বাবা ছাড়া থাকে (এতিম অথবা প্রবাসী বাবার সন্তান অথবা সেপারেটেড অভিভাবকের সন্তান) তাদের কাছে ঈদটা খুব মলিন থাকে। তারা চাইলেই অন্যদের মতো করে যখন তখন ঘুরে বেড়াতে পারে না মা বাবার হাত ধরে।

আমাদের চারপাশে যাদের আত্মীয়-স্বজনের মাঝে এমন ছোট বাচ্চা আছে আমরা চাইলেই তাদেরকে এই একটুখানি আনন্দ দিতে পারি। দরকার শুধু একটু আন্তরিকতা এবং ভালোবাসা। বাবাহীন সমাজে তাদের অনেক ধরনের প্রতিকূলতা সহ্য করতে হয়। দূরে থাকার কারণে সেই বাবারা হয়তো তাদের সন্তানদের সেভাবে সাপোর্ট দিতে পারেন না, কিন্তু তারাও সেখান থেকে অন্তর দহনে ভুগতে থাকেন।

অথচ স্বার্থপর এই সমাজে দেখা যায় বাবা না থাকার কারণে অথবা দূরে থাকার কারণে আত্মীয়-স্বজনদের দ্বারা সেই বাচ্চাটা এবং তার পরিবার অনেক ধরনের প্রতিকূল পরিবেশ পার করে দিন কাটাতে হয়। হিংসা বিদ্বেষ, নিচু মানসিকতা সহ যাবতীয় নেতিবাচক ধ্যান-ধারণার এই আত্মীয়-স্বজন যতটা সম্ভব মানসিক কষ্ট , অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক লাঞ্ছনা দেয়া সম্ভব, ততটাই দেয়।

অথচ নিরাপদ আনন্দময় শৈশব প্রতিটা বাচ্চার অধিকার। টাকা পয়সা, স্বার্থ এবং নিচু মানসিকতার কারণে অনেক অনেক বাচ্চা এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। যদি আমাদের চারপাশে কাউকে দেখি এমন নিষ্পেষিত হতে, আমাদের উচিত যার যার জায়গা থেকে এর প্রতিবাদ করা। পারিবারে কলহের ভয়ে অনেকেই হয়তো বিষয়গুলো এড়িয়ে যায়, গোপন করে। বড় মানুষেরা নিজেরা কষ্ট সহ্য করে। কিন্তু মাঝখান থেকে ছোট বাচ্চাগুলো দুঃখজনক স্মৃতি নিয়ে বড় হতে থাকে।

প্রতিটি বাচ্চার শৈশব অনেক অনেক সুন্দর হোক, নিরাপদ হোক। আল্লাহ পৃথিবীর সকল বাচ্চাকে অনেক অনেক ভাল রাখুক। ♥️


Posted

in

by

Tags: